www.RongoBazar.com - Market at your Doorstep !

With our fast changing Life Style, Rongo Bazar is the ultimate solution. Rongobazar.com offers fast, easy, money saving and gives you very interesting and enjoyable shopping experience.

What do the families think about shopping?

Most families love to go together for shopping, because, it’s the quality time they spend together and it is also great fun.

Rongobazar.com is your friend and guide for your online shopping.

We believe in providing quality service and we hope our site ‘Rongo Bazar’ will provide every information that you are looking for, thus making your online shopping quite hassle free, profitable and enjoyable.

BENEFITS FOR THE BUSINESS WITH US:

Business can be conducted 24-hours-a-day, 7-days-a-week. Products can be supplied to anyone, anywhere in the world.

BENEFITS FOR THE BUSINESS WITH US:

We respond quickly to customer requirements. Vendors can build a one-to-one relationship with customers.

Tuesday, June 20, 2017

এই বৃষ্টিতে ব্যায়াম সেরে নিন ঘরেই

বৃষ্টির দিনে গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি মিললেও রাস্তায় জমে থাকে পানি আর কাদা। এমন পরিবেশ বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার অনুপযোগী। আবার ব্যায়ামাগারে গিয়ে ব্যায়ামের সুযোগও সবার নেই। তাই ঘরেই চলুক স্বাস্থ্যরক্ষার আয়োজন।
www.rongobazar.com

এই বৃষ্টিতে ব্যায়াম সেরে নিন ঘরেই




বারান্দা, করিডর বা ছাউনি দেওয়া ছাদে ব্যায়াম করতে পারেন। হাঁটাহাঁটি, দৌড়ানো, দড়িলাফ, বুক ডন—ঘরে সবই সম্ভব। তবে এভাবে নানা ধরনের ব্যায়ামে কতটা ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, সেটিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। কেবল বাড়িতে ব্যায়াম করে পর্যাপ্ত ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব না হলে খাদ্যাভ্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।
হাঁটাহাঁটি বা দৌড়ানোর সময় কতটা ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, তা নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর। কতটা দূরত্ব পেরোচ্ছেন, আপনার শরীরের ওজন কত এবং আপনি কেমন গতিতে হাঁটছেন বা দৌড়াচ্ছেন। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে আপনি কতটা ক্যালরি পোড়াচ্ছেন, তা অনুমান করা সম্ভব।
গড়ে ২০ বার পা ফেলে চলাচল করলে এক ক্যালরি শক্তি পোড়ে। তবে যাঁর ওজন বেশি, তাঁর ক্যালরি পোড়ানোর মাত্রাটাও বেশি। যত বেশি দূরত্ব পেরোনো যাবে, ক্যালরিও তত বেশি পুড়বে। দ্রুতগতিতে হাঁটলে বেশি ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব, আবার ধীরে ধীরে হাঁটলে কম ক্যালরি পুড়বে। এভাবে হিসাব করে আপনি সারা দিনে কতটা ক্যালরি খরচ করছেন, তা অনুমান করতে পারেন। বাড়িতে ট্রেডমিল ও স্থির সাইকেলসহ অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্রের সাহায্যেও ব্যায়াম করা যায়। কোনো কোনো ট্রেডমিলে ক্যালরি খরচের তথ্যও পাওয়া যায়।
প্রতিদিনই খুব ভারী ব্যায়াম করতে হবে, এমন নয়। নিয়মিত শরীরচর্চা করাটা জরুরি। ব্যায়াম ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ক্যালরি খরচের হিসাব রাখলে মনে তৃপ্তি আসবে। অযথা পরিশ্রম হচ্ছে, এমনটা ভেবে হতাশ লাগবে না। শরীরচর্চায় নিয়মিত সময় দিতে আগ্রহ পাবেন।

অধ্যাপক সোহেলী রহমান
বিভাগীয় প্রধান, ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ,
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পিএইচডির স্কলারশিপ

পিএইচডি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের লেখক (বাঁ থেকে চতুর্থ)কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপ পাওয়া যায়? স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী ক্রাইটেরিয়াকে (নির্ণায়ক) বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়? এই রকম প্রশ্নের উত্তর চেয়ে প্রতি মাসেই প্রায় ১০ থেকে ১২টি ইমেইল পাই | গত কয়েক বছর থেকেই এমনটি চলে আসছে | কাজের ফাঁকে যতটুকু পারি সবাইকে সহযোগিতা করতে চেষ্টা করি | আজ ভাবলাম এই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু লিখব | যারা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে আসতে চান তাদের জন্য কিছুটা হলেও কাজে আসবে |

গত পাঁচ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কলারশিপ কমিটিতে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে | বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমার কাজ ছিল আবেদনকারী ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীদের একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা | সেই তালিকা থেকেই অনেক যাচাই বাচাই করে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা হতো | অনেক চুলচেরা বিশ্লেষণ হতো | সেখান থেকেই বাছাই করা নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য ইনভাইটেশন লেটার পাঠানো হতো | তবে বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীদের সিভি, ট্রানসক্রিপ্ট, রিকোমেন্ডেশন লেটার এগুলো পড়ে, দেখে বেশ কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে | তা ছাড়া আমার নিজের ল্যাবেও কিছু বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রী নিয়োগ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে | এই অভিজ্ঞতাগুলোর কিছু অংশ স্কলারশিপ প্রার্থী ছাত্রছাত্রীদের কাজে আসতে পারে |

দুই.

অস্ট্রেলিয়াতে পিএইচডির ভর্তি এবং স্কলারশিপের জন্য যারা অ্যাপ্লাই করেন, তাদের অ্যাপ্লিকেশন প্রথমেই তারা কোন দেশ থেকে এসেছেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসেছেন, তাদের এডুকেশন লেভেল অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশন লেভেলের সমান কিনা—তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, যদি কোনো দেশের এডুকেশন লেভেল অস্ট্রেলিয়ার এডুকেশন লেভেলের সমান না হয়, তাহলে সে দেশের মাস্টার্স ডিগ্রিধারী একজন ছাত্র তার দেশের মাস্টার্স ডিগ্রি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়াতে সরাসরি পিএইচডিতে ভর্তি ও স্কলারশিপের সুযোগ পাবেন না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কেমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ তা একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা করি। অস্ট্রেলিয়া কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনের এক নীতিমালায় অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনটি ভাগে ভাগ করেছে।

সেকশন ১: মূলত ১৯৭১ সালের পূর্বে প্রতিষ্ঠিত সকল বিশ্ববিদ্যালয় এই সেকশনের অধীনে আছে। প্রথম ক্যাটাগরিতে রাখার কারণ হিসেবে দুটি বিষয়কে বিবেচনায় আনা হয়েছে। (ক) কোয়ালিফায়েড শিক্ষক, যাঁরা ভালো মানের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম নিশ্চিত করেন। (খ) প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা। যার মাধ্যমে দেশ সেরা ছাত্রছাত্রীদের এই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কুয়েট, চুয়েট, ডুয়েট, রুয়েট, কৃষি, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এই সেকশনে স্থান পেয়েছে।
সেকশন ২: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনের সকল কলেজ এই সেকশনে পড়েছে। এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীনস্থ সকল কলেজের শিক্ষামান স্ট্যান্ডার্ড মানের অনেক নিচে। এই সব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের এমপ্লয়মেন্ট আউটকামস ন্যাশনাল লেভেলে তেমন ভালো হয় না। এই সব কলেজের বেশির ভাগ শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলা হয়েছে, তাঁদের বেশির ভাগের বিএসসি বা এমএসসির চেয়ে বেশি উচ্চতর কোনো ডিগ্রি নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে আনা মারাত্মক সমস্যাগুলোকে এখানে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। কলেজের পাশাপাশি এই সেকশনে আরও রাখা হয়েছে দেশের প্রায় সবগুলো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও গত কয়েক বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে (ফেনী, বরিশাল, কুমিল্লা, যশোর, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাকি সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়)। খুব অবাক হয়ে আমি খেয়াল করেছি এই সেকশনে ফেলে রাখা হয়েছে দেশের সেরা দুটি বিশ্ববিদ্যালয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে (খুবি)!
সেকশন ৩: ওপরের দুই সেকশনের বাইরে যত প্রতিষ্ঠান আছে প্রায় সবগুলো এই সেকশনের অধীনে আছে।
এই রকম সেকশনে ভাগ করে যা করা হয়েছে তা বিস্তারিত বোঝাতে নিচে দুটি উদাহরণ দিচ্ছি |
সেকশন ১-এর অধীনের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন ছাত্র বা ছাত্রী যদি চার বছরের ব্যাচেলর পাস করার পর দুই বছরের মাস্টার্স করে, তবে তার এই দুটি ডিগ্রিকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাচেলর ও মাস্টার্সের সমপর্যায়ের বলে ধরা হবে। অর্থাৎ এই ছাত্র বা ছাত্রীর পক্ষে বাংলাদেশে মাস্টার্স করে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির জন্য সরাসরি অ্যাপ্লাই করতে পারবে।
সেকশন ২-এর লিস্টেড বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যদি কেউ চার বছরের (অনার্স) ব্যাচেলর করে তবে তার ডিগ্রি অস্ট্রেলিয়ার মূল ব্যাচেলর ডিগ্রির অ্যাসোসিয়েট বলে ধরা হবে। দুই বছরের মাস্টার্স ডিগ্রিকেও অস্ট্রেলিয়ার মূল মাস্টার্স ডিগ্রির অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি ভাবা হবে। এই ছাত্র বা ছাত্রী যদি চার বছরের (অনার্স) ব্যাচেলরের পরে আবার দুই বছরের মাস্টার্স করে তবে তার যোগ্যতাকে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাচেলরের সমপর্যায়ের ভাবা হয় (তাও থিসিস ও ডিগ্রির মূল্যায়ন সাপেক্ষে)। তার মানে সেকশন ২-এর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চার বছরের অনার্স ও দুই বছরের মাস্টার্সের পর অস্ট্রেলিয়াতে কেউ সরাসরি পিএইচডি করতে পারবে না। এমনকি মাস্টার্সে অ্যাপ্লাই করলেও সেটা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে বলা যাবে যে, সেই ছাত্র বা ছাত্রী আসলে মাস্টার্সে ভর্তি হতে পারবে কি না!
আমি কখনো ইনস্টিটিউটের ক্লাসিফিকেশনে বিশ্বাস করি না। কোন ইউনিভার্সিটি ভালো আর কোন ইউনিভার্সিটি খারাপ—এটি আমি সহজে বলতে পারি না। কারণ পুরো বিষয়টিই আমার কাছে আপেক্ষিক বলে মনে হয়। কিন্তু এর পরেও বলতে বাধ্য হচ্ছি, বাংলাদেশের অন্য যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাবিপ্রবি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান খারাপ—এটি আমি মেনে নিতে পারব না। ওখানে ভালো মানের শিক্ষক নেই সেটিও মেনে নিতে পারব না। আমার জানা মতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে অনেক ছাত্রছাত্রী অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের অনেক নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন ও মূলধারার গবেষণা করছেন। যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে শাবিপ্রবি থেকে বেশি বই কম জার্নাল পেপার হয় না। পত্রিকায় তো দেখি প্রায় প্রতি বছরই শাবিপ্রবির কোনো না কোনো শিক্ষক ইউজিসির গবেষণা এক্সসেলেন্স পুরস্কার পান।
সংগত কারণেই আমি এখানে একটি অনুরোধ করতে চাই | আমাদের শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ কী এই ব্যাপারে ইউজিসির সঙ্গে বা শাবিপ্রবি-খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলাপ করবেন? আমরা যারা এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রছাত্রী আনতে চাই তাদেরও উপকার হয়, ওই সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীরাও ঝামেলা থেকে মুক্তি পান।

প্তিন.

পিএইচডির ভর্তি ও স্কলারশিপের জন্য এর পরেই যে বিষয়টিকে খুব গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় সেটি হলো অনার্স ও মাস্টার্সে ভালো রেজাল্ট | দুটিতেই সিজিপিএ ৩.৫-এর থেকে বেশি থাকলে ভালো | অস্ট্রেলিয়াতে একাডেমিক স্কোর ৭ স্কেলের মানদণ্ডে মাপা হয় | ৭-এর মধ্যে ৭ হলে তাকে হাই ডিস্টিংশন হিসেবে ধরা হয় | আর ৬ বা ৫ হলে পর্যায়ক্রমে ডিস্টিংশন বা ক্রেডিট হিসেবে ধরা হয় | অস্ট্রেলিয়ার মোটামুটি সব বিশ্ববিদ্যালয়েই পিএইচডিতে ভর্তির ক্ষেত্রে ক্রেডিটের সমপর্যায়ের বা তার চেয়েও বেশি স্কোরের রেজাল্ট থাকতে হবে | অনার্স ও মাস্টার্সে থিসিস অবশ্যই থাকতে হবে | সেই থিসিস আবার নামেমাত্র হলে হবে না | দুটি থিসিসেই কমপক্ষে ৭০ থেকে ১০০ পৃষ্ঠার হতে হবে (১০ হাজার থেকে ১৪ হাজার শব্দের মাঝে) | থিসিসগুলো থেকে যদি ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে (যেটার ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৩ বা তার ওপর) একাধিক ভালো পাবলিকেশন থাকলে অ্যাপ্লিকেশন এমনি থেকেই হাইভ্যালুড হয়ে যায় |
ইদানীং একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি | বাংলাদেশ থেকে অনেক ছেলেমেয়ে নামেমাত্র ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল, এমন জার্নালে পাবলিকেশন করছে | এক বছরে সাতটা থেকে ১০টা জার্নাল আর্টিকেল প্রকাশ করেছে এমন অনেক সিভিও পাই | খোঁজ নিয়ে দেখেছি এসব জার্নালের নামধামও কোথাও খুঁজে পাইনি | বেশির ভাগেই ইনডেক্সড জার্নাল না | আইএসআই বা এসসিআই (ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক ইনডেক্স বা সায়েন্স সাইটেশান ইনডেক্স) কোনো ইনডেক্সেই এদের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না | এ ক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ এমন নামমাত্র জার্নালে এত বেশি সংখ্যক পাবলিকেশন না করে ভালো মানের জার্নালে দুই-একটি পাবলিকেশন করা বুদ্ধিমানের কাজ | এতে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীর কাজের ও রিসার্চ ট্রেনিংয়ের কোয়ালিটি সম্বন্ধে একটি ভালো ধারণা প্রকাশ পায় |
অনেকেই বলেন বাংলাদেশ থেকে ভালো পাবলিকেশনের তেমন সুযোগ নেই | কথাটি ঠিক নয় | একটি উদাহরণ দিই | গত কয়েক বছর ধরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বেশ কয়েকটি গবেষণা দল প্রায় নিয়মিত ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে ভালো মানের পাবলিকেশন করছেন | আর এর ফলস্বরূপ এই বিভাগ থেকে পাস করে অনেক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশের খুব নামকরা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে গবেষণা করছেন | ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, কৃষি, চট্টগ্রাম, খুলনা ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে নিয়মিত ভালো মানের পাবলিকেশন প্রকাশিত হচ্ছে | কিন্তু সবার যে সে সুযোগ থকবে তা কিন্তু নয় | আর তা ছাড়া কিছু বিভাগ আছে যাদের হয়তো পাবলিকেশনের তেমন সুযোগেই নেই | তাদের জন্য আমার পরামর্শ হলো বাংলাদেশের তাদের অনার্স ও মাস্টার্সের ভালো ফলাফল দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান বা তাইওয়ান থেকে তারা আরও একটি মাস্টার্স করে ফেলতে পারেন | শুধু এই কয়টি দেশই না, বাংলাদেশের অনার্স ও মাস্টার্সের ভালো রেজাল্ট দিয়ে আরও অনেক দেশেই মাস্টার্সের ভালো সুযোগ করে নেওয়া যায় | এই সুযোগে তারা কয়েকটি ভালো পাবলিকেশন করে ফেলতে পারবেন | আমি নিশ্চিত এই সব দেশের ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি মাস্টার্স থাকলে অস্ট্রেলিয়ার যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে |
এখানে বলে রাখা ভালো যে, অস্ট্রেলিয়াতে মাস্টার্সের স্কলারশিপের সুযোগ অনেক কম | আবার বাংলাদেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সকে অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের অনার্সের সমমানের মনে করে না | আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাতেও জানি যে, এই দুটি অনার্সের মাঝে বিশাল পার্থক্য | বাংলাদেশে যেখানে চার বছরের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি শেষ হলেই ডিগ্রির সঙ্গে অনার্স কথাটি অটোমেটিক লেগে যায়, অস্ট্রেলিয়াতে ব্যাপারটি সেই রকম না | এখানে অনার্সের জন্য ছাত্রছাত্রীদের আলাদা একটি বছর পড়াশোনা করতে হয় | পুরো একটি বছর গবেষণা করতে হয় | এই এক বছর অনার্স ইয়ারে অস্ট্রেলিয়ার ছাত্রছাত্রীরা যা করে তা ইন্টারন্যাশনাল অনেক ছাত্রছাত্রীরা পিএইচডিতে তিন বছরেও তা করতে হিমশিম খায় |
আরেকটি ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যায় | অনেকেই নিজের টাকায় মাস্টার্স করতে অস্ট্রেলিয়াতে আসেন | আমার নিজের ল্যাবেই এমন একজন এসেছেন | যদিও এ ক্ষেত্রে সর্বমোট প্রায় ৬৫ হাজার ডলার টিউশন ফি দিতে হয়, তবুও বলব এটি একটি ভালো ম্যুভ | এসব ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য থাকে ভালো একটি মাস্টার্সের পরে এই বিশ্ববিদ্যালয় বা অস্ট্রেলিয়ার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির স্কলারশিপ ম্যানেজ করে নেওয়া | কিন্তু মনে রাখতে হবে নিজের টাকায় পড়া এই মাস্টার্স ডিগ্রি যেন ‘মাস্টার্স বাই রিসার্চ’ বা এর সমপর্যায়ের ডিগ্রি হয় | ‘মাস্টার্স বাই কোর্স ওয়ার্ক’ বা এর সমপর্যায়ের ডিগ্রি নিয়ে পিএইচডি ভর্তি বা স্কলারশিপ পেতে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে | শুধু মাস্টার্স বাই কোর্স ওয়ার্ক ডিগ্রিতে যেহেতু রিসার্চ কম্পোনেন্ট থাকবে না তাই পিএইচডিতে ভর্তির পুরো ক্রাইটিরিয়া পূর্ণ হবে না | মাস্টার্স বাই রিসার্চের ক্ষেত্রে ডিগ্রির দুটি কম্পোনেন্ট থাকে—কোর্স ওয়ার্ক ও রিসার্চ প্রজেক্ট | রিসার্চ প্রজেক্টের জন্য ছাত্রছাত্রীদের একটি ল্যাবের অধীনে থাকতে হয়। কোনো ছাত্রছাত্রী যদি কোর্স ওয়ার্কে ভালো রেজাল্ট করেন এবং রিসার্চ প্রজেক্ট অংশেও ভালো কাজ করেন তাহলে তার হোস্ট সুপারভাইজারের রিকোমেন্ডেশনে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়েই একটা ভালো স্কলারশিপ পেয়ে যান | না পেলে, তার সুপারভাইজার নিজেই একটা ফান্ড ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন (বা দেন) |

চার.

হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি ও স্কলারশিপের আরেকটি প্রধান শর্ত হলো আইইএলটিএস স্কোর | প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই একটা ন্যূনতম আইইএলটিএস স্কোর চায় | তবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়েই ৬-এর (প্রতিটি ব্যান্ডে) নিচে নেই | যদিও আইইএলটিএস স্কোর দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কমিউনিকেশন স্কিল সব সময় সঠিকভাবে বোঝা যায় না বোঝা যায় না, এর পরেও যার আইইএলটিএস স্কোর যত ভালো তাকে তত বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় | এখানেই কিন্তু শেষ নয় | যেহেতু সায়েন্টিফিক সব আর্টিকেল, থিসিস, রিপোর্ট ইংরেজিতে লিখতে হবে তাই এই ভাষাটিতে ভালো দখল থাকলে পিএইচডি বা মাস্টার্স ডিগ্রির কাজ অনেক সহজ হয়ে যায় | আমি যত দূর জানি, যখন একজন ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীকে স্কাইপেতে বা সরাসরি ইন্টারভিউতে ডাকা হয় তখন তার কমিউনিকেশন ও লেখার স্কিলকে খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয় |

পাঁচ.

আমার দুটি ব্যক্তিগত অবজারভেশনের কথা বলে শেষ করব | প্রথমটি বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের সিভি তৈরি করা নিয়ে | আমার মনে হয় তারা সিভি তৈরিতে খুব আনপ্রফেশনাল ও কাঁচা | পিএইচডি করতে আসা একজন শিক্ষার্থীর সিভিটা খুব ইনফরমেটিভ হতে হয় | যেই ল্যাবে অ্যাপ্লাই করবে সেই ল্যাবের সঙ্গে তার বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতে পরিকল্পিত কাজের মিল আছে কিনা, থাকলেও কীভাবে আছে—সিভিতে এই বিষয়টা পরিষ্কার করে দিতে পারলে বিষয়টি সুপারভাইজারের নজরে আসবে | খুব মার্জিতভাবে তার সকল অভিজ্ঞতার কথা লিখতে হয় | অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেকেই এমন সব অভিজ্ঞতার কথা লেখেন যার সঙ্গে তার সিলেবাস বা কারিকুলামের কোনো সংযোগ নেই | সিভিতে ক্লাসে তার অবস্থান (যেমন পঞ্চাশ জন ছাত্রের ক্লাসে প্রথম অথবা ফিজিক্যাল সায়েন্স ফ্যাকাল্টিতে ৫০০ জন ছাত্রের মধ্যে ১০তম), অনার্স বা মাস্টার্সে তাদের প্রথম শ্রেণি আছে কিনা, কোনো অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে কিনা, পাবলিকেশনের ফুল রেফারেন্স ও ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর বা সাইটেশন আছে কিনা, কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন কিনা (কোন লেভেলের কনফারেন্স, ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস), পোস্টার বা টক দিয়েছেন কিনা—এসব পরিষ্কার করে লেখা ভালো | নিজের সিভি লেখার সময় অন্যেরটা দেখা ভালো কিন্তু কখনো অন্যেরটা কপি করে লেখা ভালো না | এই কাজটি কেমন ক্ষতিকর হতে পারে তার একটি উদাহরণ দিই | ২০১৬ সালে আমি কয়েকজন পিএইচডির ছাত্র নিয়োগ করব এই মর্মে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম | অনেকগুলো সিভি জমা হয়েছিল | এর মধ্যে তিনটি সিভি পড়ে আমার মাথায় হাত | এইগুলো ছিল বাংলাদেশের স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের এবং একই বর্ষের তিনজন ছাত্রের সিভি | প্রতিটি সিভিই একটি আরেকটির ফটোকপি | খুব দয়া করে এরা নিজের সংশ্লিষ্ট অংশগুলো শুধু বদলিয়েছে |
দ্বিতীয় অবজারভেশন হলো বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের রেফারেন্স লেটার নিয়ে | বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরা যেসব রেফারেন্স লেটার পাঠায় তার বেশির ভাগই খুব সাদামাটা হয় | কয়েকটি লাইন পড়েই বোঝা যায় খুব অসাবধানে ও গুরুত্বহীনভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে | প্রথম প্রথম এই বিষয়টি আমাকে খুব লজ্জা ও বিব্রত অবস্থায় ফেলত | নিজেকে কলিগদের কাছে খুব ছোট মনে হতো (সম্ভবত আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি বলেই ওরাও এই রেফারেন্সগুলো পড়ে আমার দিকে কেমন করে যেন তাকাত!) | গত কয়েক বছরে আমি যে সব রেফারেন্স লেটার পেয়েছি তা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের সুপারভাইজারদের দুটি রেফারেন্স লেটারের স্টাইল আমি ধরে ফেললাম | এর একটি অংশে আছে খুব কাঁচা ইংরেজিতে লেখা রেফারেন্স লেটার | এর কারণ (সম্ভবত) এই লেটারগুলো সুপারভাইজারেরা নিজে লেখেন না | লেখে সংশ্লিষ্ট ছাত্রছাত্রীরা | মাননীয় সুপারভাইজারেরা শুধু নিজের প্যাডে (বা ইমেইলে) এটি কাট অ্যান্ড পেস্ট করেন | রেফারেন্স লেটারগুলোর দ্বিতীয় স্টাইলটি আরও ভয়াবহ—একেই রকম বাক্য, একেই রকম শব্দ | বোঝা যায়, সুপারভাইজারেরা হয়তো রেফারেন্স লেটারের টেমপ্লেইট ব্যবহার করেন | যাকে দেওয়া হবে তার নাম পরিবর্তন করেন আর বাকি টেক্সট অভিন্ন থাকে | কিন্তু এখানে ছাত্রছাত্রীদের একটি বিষয়কে খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে | তাদের মনে রাখতে হবে রেফারেন্স লেটার স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে (ডিসিশন মেকিংয়ে) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে | তাই রেফারেন্স লেটার হতে হবে সুন্দর ও শুদ্ধ ইংরেজিতে লেখা-ছাত্রছাত্রীদের অভিজ্ঞতার মার্জিত কিন্তু পরিপূর্ণ মুখপত্র | রেফারেন্স লেটারে পরিষ্কারভাবে বলতে হবে কোথায় ছাত্র বা ছাত্রীটি দুর্বল ও কোথায় তার নৈপুণ্যতা (স্ট্রেন্থ) | একই সঙ্গে রেফারেন্স লেটারেই বলতে হবে প্রস্তাবিত প্রজেক্টের সঙ্গে ছাত্র বা ছাত্রীটির অভিজ্ঞতা কীভাবে এলাইন্ড।

ড. মুহম্মদ এম জে সিদ্দিকী (শামিম): বিজ্ঞানী ও শিক্ষক, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়া |

Sunday, June 18, 2017

মোবাইল ফোন কেড়ে নিতে পারে আপনার পুরুষত্ব!

মোবাইল ফোনের চৌম্বক তরঙ্গ আপনার শুক্রাশয়কে সেদ্ধ করে ফেলতে পারে। যা কেড়ে নিতে পারে আপনার পুরুষত্ব। নতুন এক গবেষণায় এমন আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।

Mobile_phone_evolution
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা যায়, বিছানায় মাথার কাছে রেখে ফোন চার্জ করা বা প্যান্টের পকেটে ফোন রাখলে পুরুষের শুক্রাণু উৎপাদন অর্ধেক পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে এবং এর গুণগত মানও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এ-সম্পর্কিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যক্তি দিনে ২ ঘণ্টার বেশি ফোনে কথা বলে, তাদের শুক্রাণুর উৎপাদন যারা দিনে ১ ঘণ্টা কথা বলে তাদের চেয়ে অর্ধেক। রিপ্রোডাক্টিভ বায়োমেডিসিন জার্নালে এ-বিষয়ক গবেষণার সারবস্তু প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েলের ১০৯ জন পুরুষের মধ্যে চালানো এই গবেষণায় দেখা যায়, যারা চার্জ দেওয়া অবস্থায় ফোনে কথা বলেন তাদের সমস্যা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ। এই গবেষণায় আরো দাবি করা হয়, মোবাইল ফোনের প্রভাব এতটাই মারাত্মক যে এটি পুরুষের সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাকে ধবংস করে দিতে পারে।

শেয়ারবাজার কী? এটা কীভাবে কাজ করে?

 

শেয়ার বাজার এমন একটি স্থান যেখানে বিভিন্ন দায়বদ্ধ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি যারা স্টক একচেঞ্জে নিবন্ধিত হয়ে তাদের শেয়ার কেনা বেচা করে, একে পুঁজি বাজার ও বলা হয়। “এক কথায় বলতে গেলে কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তার উদ্দিষ্ট প্রাথমিক মূলধনকে কতোগুলো ছোট অংশে ভাগ করে জনগণের কাছে বিক্রি করে হয়, এই প্রত্যেকটি অংশকে এক একটি শেয়ার বলে।“
প্রাপ্ত বয়স্ক মানে ১৮+ যে কেউ শেয়ার ব্যবসায় আসতে পারেন। তবে তার জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তা হলো ব্যাংকে সঞ্চয়ী (savings) হিসাব খুলতে হবে। এরপর সেই ব্যাংক হিসেবের বিপরীতে CDBL (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি অফ বাংলাদেশ লিমিটেডের) অধীনে বিও (বেনিফিসিয়ারি অনার) একাউন্ট খুলতে হবে। মানে সোজা বাংলায় আপনি যে কোনো ব্রোকার হাউসে থেকে এ বিও একাউন্ট খুলতে পারেন। এ বিও একাউন্ট খোলার পর একজন বিনিয়োগকারী প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি উভয় মার্কেটে শেয়ার ব্যবসা করতে পারেন। প্রত্যেক বছর বেশ কিছু কোম্পানি IPO (ইনিশিয়াল পাবলিক অফার ) দিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। একটি কোম্পানি যখন প্রথমবারের মতো বাজারে প্রবেশ করে বা শেয়ার বাজারে ছাড়ে তাকে প্রাইমারি শেয়ার বলে। যখন আপনি B.O. Account খুলবেন, তারপর আপনাকে ঐ কোম্পানীর প্রাইমারী শেয়ারের আবেদন পত্রটি সংগ্রহ করতে হবে । আর যেটাই করেন না কেন, সবকিছুই করতে হবে আপনার একটি Broker House এর মাধ্যমে।

download
প্রাইমারি শেয়ার একবার বাজারে বিক্রি হয়ে গেলেই তা সেকেন্ডারি হয়ে যায়। তখন সেটা সেকেন্ডারি মার্কেটে চলে আসে আর সেই শেয়ার সেকেন্ডারি শেয়ার বলে গণ্য করা হয়। সেকেন্ডারি মার্কেটে আপনি ইচ্ছা মতো শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবেন। বাংলাদেশে শেয়ার বাজারে বর্তমানে দুই প্রকারের শেয়ার লেনদেন হয়ে থাকে। প্রাইমারি(আইপিও) এবং সেকেন্ডারি। প্রাইমারি শেয়ারের জন্য আবেদন করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। প্রাথমিক শেয়ারের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নাই। সেকেন্ডারি মার্কেটে লাভের সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি ঝুঁকিও বেশি আছে। বুঝে-শুনে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করাই ভাল। তাই কোনো রকম গুজবে কান না দিয়ে,না বুঝে সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়।

শেয়ার বাজার সম্পর্কে জানুন

যারা নতুন সবে মাত্র ব্যবসা শুরু করেছেন তাদের জন্য। কারন আমরা ভালমন্দ বিচার না করে শেয়ার কিনি পরে তা লোকসান দিয়ে বি্ক্রি করতে হয় ফলে আমাদের অনেক টাকা ক্ষতি হয়ে যায়। তখন চোখে অন্ধকার দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকে না । যদি আমরা শেয়ার কেনার আগে একটু সচেতন হই তাহলে আমার মনে হয় খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার হাত থেকে আমরা রেহাই পাব। প্রথমে আমি আপনাদের ভাল ক্যাটাগরির শেয়ার কেনার পরামর্শ দেব। মার্কেটে বিভিন্ন ক্যাটাগরির শেয়ার আছে যেমন : এ, বি, এন এবং জেড ।
এবার বলি কো্নটা কি ?

  • এ ক্যাটাগরির শেয়ার : যে সব কোম্পানী প্রতিবছর বার্ষিক সাধরন সভা করে এবং ১০% বা তার অধিক লভ্যাংশ দেয়।
  • বি ক্যাটাগরির শেয়ার : যে সব কোম্পানী প্রতিবছর বার্ষিক সাধরনসভা করে কিন্তু ১০% এর নিচে লভ্যাংশ দেয়।
  • এন ক্যাটাগরির শেয়ার : সদ্য্ তালিকাভুক্ত কোম্পানীকে এন ক্যাটাগরির মধ্যে রাখা হয় । পরে লভ্যাংশ ও বার্ষিক সভার উপর ভিত্তি করে অন্য ক্যাটাগরিতে নেওয়া হয়।
  • জেড ক্যাটাগরির শেয়ার : যে সকল কোম্পানি নিয়মিত বার্ষিক সাধারন সভা করতে ব্যর্থ, লভ্যাংশ প্রদান করতে ব্যর্থ, পুঞ্জিভুত লোকসান পরিশোধিত মুলধনকেও ছাড়িয়ে যায়। ছয় মাস বা ততোধিক কাল সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে।

** কোনটা কোন ক্যাটাগরির শেয়ার তা জানার জন্য ভিজিট করুন।

http://www.dsebd.org

শেয়ার কেনার আগে কি কি বিষয়ের ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়? কোন শেয়ার ভালো আর কোন শেয়ারে ঝুঁকি আছে সেটা কি করে বুঝব?

শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (P/E): পি/ই রেশিও যত কম হয়, বিনিয়োগে ঝুঁকি তত কম। মূল্য-আয় অনুপাত হচ্ছে একটি কোম্পানির শেয়ার তার আয়ের কতগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে তার একটি পরিমাপ।
শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য (NAV): এর মাধ্যমে আমরা কোম্পানির শেয়ার এর প্রকৃত সম্পদ মূল্য সম্বন্ধে জানতে পারি ।
শেয়ার প্রতি আয় (EPS) : এটা যত বেশি হবে ততই ভালো। ইপিএস বেশি হলে বেশি লভ্যাংশ দেওয়ার সুযোগ থাকে। ইপিএস কম হলে লভ্যাংশের সক্ষমতাও কম হয়।
মোট শেয়ারের সংখ্যা: চাহিদা-যোগানের সূত্র অনুসারে শেয়ার সংখ্যা কম হলে তার মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে শেয়ার সংখ্যা বেশি হলে বাজারে তা অনেক বেশি সহজলভ্য হয়।
অনুমোদিত মূলধন (authorized capital) আর পরিশোধিত মূলধন (paid-up capital): এই দুই মূলধনের পরিমাণ কাছাকাছি থাকলে বোনাস ও রাইট শেয়ার ইস্যু করা বেশ কঠিন। এ ক্ষেত্রে কোম্পানিকে আগে অনুমোদিত মূলধন বাড়াতে হবে। বোনাস লভ্যাংশে যেসব বিনিয়োগকারীর বিশেষ ঝোঁক রয়েছে তাদের উচিত এসব বিষয় দেখে নেওয়া।
ডিভিডেন্ড ঈল্ড : শেয়ারের বাজার মূল্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিহিত মূল্যের চেয়ে বেশি হতে পারে। তাই লভ্যাংশের হার প্রকৃত রিটার্ন নির্দেশ করে না। ডিভিডেন্ড ঈল্ডই শেয়ারের সঠিক রিটার্ন। বাজার মূল্যের ভিত্তিতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বিনিয়োগের কত শতাংশ তা-ই হচ্ছে ডিভিডেন্ড ঈল্ড।
গত ৩-৪ বছরের ট্র্যাক রেকর্ড: কী পরিমাণ ডিভিডেন্ড দেয় তা দেখুন। বার্ষিক গড় মূল্য দেখুন। চেষ্টা করুন এই মূল্যের কাছাকাছি দামে শেয়ার কেনার। ডিএসইর সাইটে প্রকাশিত গত ৫-৬ মাসের খবর: পত্র-পত্রিকায় দেশ-বিদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসার সংবাদগুলো দেখুন। তাহলে সম্ভাবনাময় খাত ও কোম্পানি চিহ্নিত করা অনেক সহজ হবে। ডিএসই এখন ৪ মাস পর পর কোম্পানির আর্নিং রিপোর্ট প্রকাশ করে ।
একটু মাথা খাটালেই বছর শেষে কী পরিমাণ লাভ হতে পারে তা জানা সম্ভব। আপনি যে কোম্পানির শেয়ার কিনবেন সে কোম্পানির গুড উইল ও তার পরিচালকদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকটাও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি কোম্পানি কতটুকু ভালো ব্যবসা করবে, ব্যবসার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা কতটুকু তা নির্ভর করে এর উদ্যোক্তাদের দূরদর্শীতা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার উপর।

বাবার কাছে নুহাশের চিঠি

বাবার প্রথম অপারেশনের কিছুদিন পরে, জুলাই মাসে তাঁকে আমি একটি চিঠি লিখি। চাচা-চাচি যখন নিউইয়র্কে বাবার কাছে ছিলেন, সে সময় তাঁদের কাছে আমি চিঠিটা ই-মেইল করে দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম। আমি চেয়েছিলাম, বাবার জ্ঞান ফিরে এলে তাঁরা চিঠিটি তাঁকে পড়ে শোনাবেন। কিন্তু সেটি আর হয়নি। মৃত্যুর আগে তাঁর জ্ঞান আর কখনোই পুরোপুরি ফিরে আসেনি। এই চিঠিটি তাঁকে পড়ে শোনানোর সুযোগ হলো না বলে আমার ভেতরে আমি একটি গভীর শূন্যতা অনুভব করি। চিঠিটি খুবই ব্যক্তিগত; কিন্তু আমার মনে হয়, যদি অন্যেরাও এই চিঠিটি পড়েন, হয়তো আমার সেই শূন্যতা কিছুটা দূর হবে।

বাবা,
আশা করি ভালো আছ। আমি নিজে খুব ভালো অবস্থায় নেই। আমার টাইফয়েড হয়েছে। টাইফয়েডের জন্য পেটটা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুরো একটা সপ্তাহ ধরে শুধু চালের এক জঘন্য অরুচিকর জিনিস ছাড়া আর কিছুই খাইনি; বাংলায় যাকে সম্ভবত বলে ‘জাউ’। বিছানায় পড়ে থেকেছি, শুধু জাউ খেয়েছি; আর কল্পনায় ভেবেছি, কবে সেরে উঠব, কবে সুস্বাদু খাবারগুলো খেতে পাব। একটা সময়ে তো গলদা চিংড়ির জন্য মন ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল, আর আমার মনে পড়ে গিয়েছিল অন্য কিছু।
যখন মায়ের সঙ্গে তোমার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল, আমার ভীষণ কষ্ট হয়েছিল। কারণ, আমার সব সময়ই মনে হতো, সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে, তুমি আবার আমাদের কাছে ফিরে আসবে। কিন্তু যখন তোমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেল, তখন আমি উপলব্ধি করলাম সেই দরজা চিরদিনের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রসায়নের ভাষায় আমি প্রত্যক্ষ করলাম একটা দহন, পুড়ে শেষ হয়ে যাওয়া। এক অনিবর্তনীয় প্রক্রিয়া।
আমার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, আমি তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে সরে যাব, তুমিও আর আমাকে তোমার ছেলের মতো করে দেখবে না। বিবাহবিচ্ছেদের কয়েক দিন পরে তুমি আমাকে ফোন করলে। বললে, বিশাল সব গলদা চিংড়ি নিয়ে এইমাত্র তুমি বাজার থেকে এসেছ। বললে, তুমি ওগুলো রান্না করতে চাও, তোমার বাসায় আমার সঙ্গে বসে খেতে চাও। তুমি-আমি দুজনেই জানতাম, এটা সম্ভব হবে না। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় ঘটা করে ভোজ করা যায় না। কিন্তু ব্যাপারটা ওখানেই শেষ হলো না। প্রায় আধঘণ্টা পরে ইন্টারকম বাজতে শুরু করল। গার্ড আমাকে জানাল, গেটের বাইরে আমার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর হাতে একটা জ্যান্ত গলদা চিংড়ি। প্রথমে আমি হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। তারপর মজা লাগল। খানিক উত্তেজনা নিয়ে নিচে নেমে গেলাম। তুমি বললে, ‘বাবা, আমি খুব চাচ্ছিলাম এটা আমরা একসঙ্গে খাই। কিন্তু সেটা তো এখন সম্ভব না। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, সব সময় আমি তোমার পাশে থাকব। একদিন আমরা আবার একসঙ্গে বসে ভালো খাবার খাব। কিন্তু আপাতত আমি চাই তুমি এটা খাও।’ তারপর তুমি আমার হাতে তুলে দিলে একটা জ্যান্ত গলদা চিংড়ি। পানির ফোঁটার মতো চোখ আর সরু সরু ঠ্যাংওয়ালা ওই সাংঘাতিক জীবটাকে আমার মনে হচ্ছিল আশা। এই আশা যে, যা-কিছুই ঘটুক না কেন, তুমি সব সময়ই আমার পাশে থাকার চেষ্টা করবে।
আমার মনে হয় না আমি তোমার পাশে ছিলাম, অন্তত তত পরিমাণে নয়, যতটা আমার থাকা উচিত ছিল। যখন তোমাকে আমি ফোন করতাম, প্রায়ই তুমি কথা বলার মতো অবস্থায় থাকতে না। আর যখন আমাদের কথা হতো, আমার এত খারাপ লাগত যে ভালো করে নিজেকে প্রকাশ করতে পারতাম না। আমি কখনোই তোমার মতো শব্দের কারিগর ছিলাম না। অস্ত্রোপচারের আগে তুমি যখন ঢাকায় ফিরে এলে, তখন তোমাকে দেখতে যাওয়া কষ্টকর ছিল। তোমার বাসায় যেতে প্রত্যেকবার গেটে বাধা পাওয়া ছিল বেদনাদায়ক। বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কোনো ছেলেরই প্রত্যেকবার নিরাপত্তাপ্রহরীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু এগুলো কোনো অজুহাতই নয়। তোমার কাছে আমার আরও বেশি বেশি যাওয়া উচিত ছিল। আমি চাই, সবকিছু বদলে যাক। আমি তোমাকে জানাতে চাই, আমি তোমাকে অসম্ভব মিস করি। তুমি জেনো, আমি যতটা তোমাকে আমার পাশে পেতে চাই, ততটা পাই না বলে আমার ভেতরটা এখনো পোড়ায়।
এই চিঠি তোমার জন্য আমার গলদা চিংড়ি।
তোমার ছেলে
নুহাশ
ইংরেজি থেকে অনূদিত

Thursday, June 8, 2017

পুঁজিবাজারের মৌল ধারণা

 
  
indexবিনিয়োগ ক্ষেত্র হিসাবে পুঁজিবাজারের পরিধি ব্যাপক এবং বিস্তৃত। আমাদের সবার লক্ষ্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে মুনাফা করা।  যদিও একজন সাধারণ বিনিয়োগকারীর পক্ষে এ বাজারে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জনের বিষয়টি খুব সহজ কাজ নয়। এজন্য বিনিয়োগকারীকে বিভিন্ন কলা কৌশলসহ বহুবিধ বিষয় জানতে এবং বুঝতে হয়। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে জানা বা শেখার ব্যাপারে আমাদের অনাগ্রহের বেশ বড় মাপে ঘাটতি রয়েছে। আমরা না জেনে বা শিখে অনেক কিছু পেতে চাই। কিন্তু সেটা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই আজকের আলোচনায় পুঁজিবাজারের শিক্ষনীয় মৌল বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হবে।

আপনারা সবাই জানেন- পুঁজিবাজার পুঁজিঘন এবং অত্যন্ত বুদ্ধিভিত্তিক বিনিয়োগ ক্ষেত্র। এখানে বিনিয়োগের সময় বিনিয়োগকারীকে অনেক প্রজ্ঞা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হয় । বিনিয়োগ সংক্রান্ত স্বচ্ছ ও মৌলিক জ্ঞান ছাড়া  এ ব্যবসায় ভালো ফল লাভ করা যায় না। যারা দীর্ঘ মেয়াদে এখানে বিনিয়োগ করে প্রত্যাশিত মুনাফা লাভ করতে চান তাদেরকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানতে এবং শিখতে হয়। এই শেখার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে- তিনটি ধারা খুঁজে পাওয়া যায়।


এক. ঠেকে ঠেকে শেখা :- যারা মূলত এই ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থেকে সেবা দান করছেন তাদের সবাইকে ঠেকে ঠেকে শিখতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় শেখার জন্য একটু ধৈর্য্য এবং বাড়তি শ্রম প্রয়োজন হয়। যারা শিখতে পারেন তারা নিশ্চিত সুফল লাভ করেন।

দুই. ঠকে ঠকে শেখা :- আমরা যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে শিখতে চেষ্টা করছি। এই প্রক্রিয়ায় যারা শিখতে চান তাদের অনেকেই কর্ষ্টাজিত পুঁজি এবং মূল্যবান সময়ের চরম মূল্য দিয়ে শিখতে হয়। এই শেখার ফলাফল সহসা লাভ করা যায় না।

তিন. আগাম শেখা :- শিক্ষানবীশ হিসাবে জ্ঞান লাভ করা, তারা প্রথম দুই শ্রেণির তুলনায় অবশ্যই সৌভাগ্যবান। বিশেষ করে আমরা যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করিনি বা করতে ইচ্ছুক তারা অনেক বেশি অর্থ এবং সময় খরচ না করেই শিক্ষা লাভের সুযোগ পাচ্ছি।

আমরা জানি, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ধারণা, পরিশ্রম ও সর্তকতার আলোকে অভিজ্ঞাতার বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়।(লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট এবং তিতাস গ্যাস কোম্পানি দু’টোতে সাম্প্রতিক বিনিয়োগ ফলাফল এর বড় উদাহরণ। দুটি কোম্পানিই মৌলভিত্তি সম্পন্ন। তিতাসের আয় ভালো হলেও বিশেষ কারণে এবছর তা কমেছে, আগামীতে আরো কমে যাবার আশংকা রয়েছে। অপরদিকে বহুজাতিক সিমেন্ট কোম্পানি লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের বিক্রি এবং আয় কমেছে, ব্যয় বাড়ছে। ফলে দুটি কোম্পানির শেয়ারের দাম গত দেড়/দুই মাসে ২৫-৩০% এবং এক বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী অধিক আত্মবিশ্বাসের কারণে কোম্পানির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর না নিয়ে কোম্পানি দুটিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার ফলে বড় লোকসানের শিকার হয়েছেন। আর যারা খোঁজ-খবর নিয়ে বা আগাম বুঝতে পেরে শেয়ার দুটি এক বছর বা দু’মাস আগে বিক্রি করেছেন তারা হয়েছেন লাভবান। এটাকে বলা যায় দূরদর্শীতা বা সতর্কতার ফল। তবে এটাও মনে রাখা দরকার- সাময়িক নেতিবাচক খবরে বিনিয়োগ ঝুঁকি এড়াতে ভালো মৌলের শেয়ার বিক্রি করে সে পুঁজি নতুন ভাবে কোথায় বিনিয়োগ করছেন? ডাঙায় বাঘের থাবার আক্রমন থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য পানিতে ঝাঁপ দিয়ে কুমির বা হাঙ্গরের মুখে পড়ছেন কিনা? যারা লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট এবং তিতাস গ্যাস কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করে এক বছর আগে ফিন্যান্স এবং ইন্স্যুরেন্স খাতে বিনিয়োগ করেছেন তাদের অবস্থা তেমনটি হয়েছে। কিন্তু অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী তা করেননি বলা যায়।
*পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত জ্ঞান অনেকটা নবায়নযোগ্য উচ্চতর গবেষণার মতো। এটা নিয়মিত অধ্যায়ণ বা অনুশীলনের মাধমে আত্মস্থ করতে এবং সে অনুসারে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। বিনিয়োগ চোখ বুজে ঢিল ছুঁড়ে পাখি মারার মতো বিষয় নয়।

সুতরাং যারা শুরুতেই যে কোনো বিষয় ভালো ভাবে জানা এবং বোঝার সুযোগ লাভ করে, তারা অল্প সময়ে অনেক সফলতা অর্জন করতে পারেন। সে বিচারে বলতে পারি- আমাদের তুলনায় নবীনরা অবশ্যই সৌভাগ্যবান। আশা করছি- আজকের আলোচনার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্ভাবনা-সমস্যা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত লাভ-লোকসানের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভালো ভাবে জানা এবং বোঝার সুযোগ ঘটবে।
পুঁজিবাজারের গতি-প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট্য পর্যালোচনা

পুঁজিবাজারের ব্যাপ্তি বা পরিধি যেমন ব্যাপক এবং বিস্মৃত এখনকার বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি কর্মকান্ড তার চেয়েও  বেশি ব্যাপক, জটিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেস্ববিরোধী*। এসব বিষয় বিনিয়োগকারীর ভালো ভাবে জানা দরকার।
পুঁজিবাজারের  ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে- সার্বিক বিচারে এ বাজারে খুব কম সময় চাঙা অবস্থা বিরাজ করে। অধিকাংশ সময় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম, লেনদেন ও মূল্য সূচক নিন্মমুখী দেখা যায়।এ সময় মাঝে মাঝে বাজারে ছোট ছোট উত্থানের ঢেউ দেখা দিলে তা মিলিয়ে যেতে সময় লাগে না। এ অবস্থার প্রেক্ষিতেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম, আয় প্রবৃদ্ধি অনুসারে অতিমূল্যায়িত থাকতে পারে। ফলে পতনমূখী বা মন্দাক্রান্ত বাজারে অপেক্ষাকৃত কম দামের শেয়ারে বিনিয়োগ করেও সাধারণবিনিয়োগকারীরা লাভবান হতে পারে না। বরং লোকসান গুনতে হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রে।মূলত মন্দাক্রান্ত বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম মনে করা হলেও অজ্ঞতা বশতঃ বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের শিকার হতে পারেন।বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়- চাঙা বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী অতিমূল্যায়িত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা অর্জন করে। চাঙা বাজারে এমন একটা সময় আসে যখন অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ, দক্ষ-অদক্ষ এবং নতুন-পুরাতনসব বিনিয়োগকারী মুনাফা করতে পারে। তখন বিনিয়োগ খুব বেশি বিচার বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন হয় না। অথচ মন্দা বাজারে শেয়ারের দাম অপেক্ষাকৃত কম হলেও বিনিয়োগকারীরা খুব সাবধানী বা হিসাবী হয়।সাধারণত তারা তখন খুব বেশি ঝুঁকি নিতে চায় না। ফলে মন্দা বাজারে বিনিয়োগে মুনাফা করা কঠিন হয়ে যায়। বরং এ সময় বেশির ভাগ বিনিয়োগকারী লোকসানের শিকার হয়। তবে মন্দাক্রান্ত বাজারে বিনিয়োগে মুনাফা করা যায় না একথাও সত্য নয়। দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা এ বাজার পরিস্থিতিতেও অত্যন্ত আকর্ষণীয় মুনাফা করতে সক্ষম হন। আর এজন্য বিনিয়োগকারীকে বিনিয়োগের মৌলিক বিষয়গুলো এসময় ভালো করে জানতে ও বুঝতে হয়। এতে যারা যতো দক্ষতার পরিচয় দেন; বিনিয়োগে তারা ততো লাভবান হন। আর এসময়ে নতুন ভাবে পোর্টফোলিও সাজানোর সহজ সুযোগ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে উদার এবং হিসাব নির্ভর বিনিয়োগ নীতি পরিহার করে সংরক্ষণমূলক বিনিয়োগ নীতি গ্রহণ করে ধৈর্য্যরে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।মন্দা বাজারে ভালো মৌলের কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেক কম থাকে। এসময় সে সব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে ভবিষ্যতে ভালো মুনাফা করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই দক্ষ বিনিয়োগকারীরা এই সময়টাকে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের উত্তম সময় বলে মনে করেন। যারা শেয়ার বাজারের ক্রান্তিকালে বিনিয়োগ করেন, তারাই অধিক হারে সফলতা লাভ করেন। এটা পুঁজিবাজারের ইতিহাসে চিরন্তন প্রমাণিত সত্য। আমরা আশাবাদী- উপস্থিত বিনিয়োগকারীরা সম্ভাবনাময় বাজারে দক্ষতা ও প্রজ্ঞার সাথে বিনিয়োগ করে সাফল্য লাভ করবেন।


* শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়লেবা অতিমূল্যায়িত শেয়ারে বিনিয়োগে ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। অথচ বিনিয়োগকারীরা তখন অধিক হারে বিনিয়োগ করে থাকে।

* মৌলভিত্তিহীন লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বভাবিক মাত্রায় বাড়ার পরও আরো দাম বাড়বে- এমন গুজব ও হুজুগে বাজারে সেসব কোম্পানির শেয়ার কেনার অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির ফলে বিক্রেতা শূন্য হতে দেখা যায়।

* কোনো কারণে শেয়ারের আয় ৫/১০ শতাংশ কমেছে এমন খবরে শেয়ারের দাম ৩০/৪০ শতাংশ কমার পরও আরো কমতে পারে এমন আশংকায় বিক্রির চাপে বাজার ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ে।

* চাঙা বাজারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আইনি শৈথল্য বা উদার নীতি লক্ষনীয় হয়ে ওঠে। অথচ পতনমুখি বিপর্যস্ত বাজারে কঠোর নিয়ম-নীতি আরোপ করা হয়।
পুঁজিবাজারের গতি-প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট :
 
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হলে এর গতি প্রকৃতি এবং বৈশিষ্ট বুঝতে হবে। গানের মতো-‘আইলাম আর গেলাম খাইলাম আর পাইলাম ভবে/দেখেলাম শুনলাম কিছুই বুঝলাম না।’ এমন ভাবনাবুদ্ধিমানের কাজ নয়। পুঁজিবাজারে বিভিন্ন ইস্যু যেটা বা উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত বা পরিচালিত হয়। এগুলোর প্রতিটির স্তর বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্র বা আলাদা এবং তাদের উদ্দেশ্য লক্ষ্য বা স্বার্থ সম্পূর্ণ আলাদা কখনো কখনো স্ববিরোধী বা সাংঘষিক। পুঁজিবাজারের গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করলে সে ধরনের চিত্র দেখা যায়।

সাধারণভাবে বলা যায়- পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং অভিন্ন। তাদের সবার লক্ষ্য বিনিয়োগ করে মুনাফা করা। সে হিসাবে শেয়ারের দাম বা মূল্যসূচক বাড়লে সবার স্বার্থ সুরক্ষিত বা খুশি হবার কথা। বাস্তবে কী তা ঘটে? মোটেও না। একদল বিনিয়োগকারী যাদের হাতে শেয়ার রয়েছে দাম বাড়লে তারা খুশি বা লাভবান হয়। অন্যদিকে যাদের হাতে শেয়ার নেই বা বিক্রি করে দিয়েছে এবং নতুন করে কেনার অপেক্ষায় আছে তারা দাম কমলে বা বাজারে ধস নামলে খুশি হয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যণীয় স্বার্থ অভিন্ন হলেও ক্ষেত্রবিশেষে একজন বিনিয়োগকারী একে অপর জনের প্রবল প্রতিপক্ষ।শুধু বিনিয়োগকারী নয়, নানা ধরনের অনিয়ম, বিধি-বিধানের অসঙ্গতি, স্টেকহোল্ডারের স্বার্থ,পুঁজিবাজারের কারসাজি চক্র বিনিয়োগকারীর প্রতিপক্ষ। এক কথায় বলতে গেলে- বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হচ্ছে তার অজ্ঞতা এবং অতিমাত্রায় লোভ বা ভীতি। সে যদি অজ্ঞতার কারণে বাজারের গতি-প্রকৃতি অনুধাবন না করতে পারে, মৌলভিত্তি কোম্পানি এবং  সেগুলোর আয় ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির সম্ভাব্য হার, প্রকৃত মূল্যে স্তর বা শেয়ারের দাম এবং বিশেষ করে ঝুঁকি অনুধাবন না করে লোভের বশীভূত হয়ে বিনিয়োগ করে  সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ।আর যারা এই সীমাবদ্ধতাকে কাটিয়ে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয় তারা আব্যাঞ্জক মুনাফা লাভ করে অব্যশই। বিনিয়োগকারীকে বুঝতে হবে পুঁজি বাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ ক্ষেত্র। এখানে যেমন পুঁজি বিনিয়োগে আশাব্যঞ্জক মুনাফার সম্ভাবনা রয়েছে, তেমনি আছে লোকসানের অনাকাক্সিক্ষত আশংকা বা বহুবিদ ঝুঁকি। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম অন্তর্নিহিত শক্তিতে যেমন আয়-ব্যয়, লাভ-লোকসান এবং সম্ভাবনাও সংকটের কারণে যতোটা বাড়ে-কমে অধিকাংশ সময় তার চেয়ে অনেকটা বেশি প্রভাবিত হয় পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে। এগুলো হচ্ছে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধি-বিধান, স্টক এক্সচেঞ্জের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক অবস্থা, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্টেক হোল্ডারদের সততা, দক্ষতা, মানসিকতা, কোম্পানির ব্যবসার ধরন এবং সর্বপরি বিনিয়োগকারীদের যোগ্যতা এবং মানসিকতা এসব বিষয় ইতিবাচক না হলে বাজার ভালো হয় না। বরং এসবের প্রভাব বা প্রতিক্রিয়া বাজারে প্রতিফলিত হয়। সা¤প্রতিক কালে এর সাথে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব প্রেক্ষাপট। এজন্য বিনিয়োকারীকে বিনিয়োগের আগে দেশের আর্থ-সামাজিক পেক্ষাপট এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয়গুলো অবশ্যই অনুধাবন করতে হবে। যেমন- জাতীয় আয় ও সঞ্চয়, বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রা বাজার পরিস্থিতি, শিল্পনীতি, আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি, ব্যাংকের সুদের হার, কলমানি রেট, বিভিন্ন স্থায়ী বিনিয়োগের রিটার্ন রেশিও এবং নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র বা খাত- সঞ্চয়পত্র, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মেয়াদী আমানত থেকে প্রাপ্ত সুদ হার প্রভৃতি বিষয় জানতে এবং বুঝতে হবে। কেননা এগুলো পুঁজিবাজারের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভাবে সম্পৃক্ত। নিরাপদ বিনিয়োগ রিটার্ন ভালো হলে পুঁজিবাজারে ঝুঁকি গ্রহণে মানুষ সাধারণত আগ্রহী হয় না। দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার পেক্ষাপটে সুদ হার কমেছে, এটা আরো কমবে। সঞ্চয়পত্রেও উচ্চসুদ আর থাকবে না। তাছাড়া রাজনৈতিক সংকট ও আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি সহনশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।এই বিষয়গুলো পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা। সুতরাং ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারের অভ্যন্তরীন সম্যসা দূর হলে এখানে বিনিয়োগ বাড়বে। আপনাদের একটা সুসংবাদ দিতে চাই-বাজার সাইকেল একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে আবর্তিত হয়। বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে- বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে ৮, ১০, ১২ বা ১৫ বছরে সাইকেলটি সর্বনিম্ন স্তর থেকে সবোর্চ্চ সীমায় উপনীত হয়। দেশের শেয়ার বাজার ক্রান্তিকালের অনেকটা সময় অতিক্রম করেছে। অন্ধকার অমানিশার রাত কেটে সূর্য ওঠার প্রহর গুনছেন বিনিয়োগকারীরা।আমি যা বুঝি তা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চেষ্টা করবো, আমার যেখানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করতে পারেন। আমরা সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধশালী গবেষণা সেল তৈরি করতে চাই । যা বিনিয়োগে আমাদের জন্য সহায়ক হবে। ভালো কিছু অর্জন করতে হলে প্রস্তুতি এবং আয়োজন ভালো হওয়া দরকার। আপনারা চাইলে খুব দ্রুত  কোম্পানির আলোচনায় যাওয়া যাবে। কিন্তু আমি মনে করি পুঁজিবাজারের পারিপার্শ্বিক বিষয়গুলো সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আগে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে দুটি ধারা বিদ্যমান। একটি হচ্ছে মৌলভিত্তি সম্পন্ন বিনিয়োগ। যার বিভিন্ন দিকগুলো যৌক্তিকভাবে বিচার বিশ্লেষণ করা যায়। মৌলভিত্তি বিনিয়োগে সাময়িক ঝুঁকি থাকলেও এক সময় সবাই এখান থেকে মুনাফা করতে সক্ষম হয়। অপরদিকে দ্বিতীয় ধারাটি হচ্ছে গুজব ও কারসাজি নির্ভর বিনিয়োগ। এটা অনেকটা গ্যাম্বলিং এর মতো।এ বিনিয়োগের যৌক্তিক বিচার বিশ্লেষণ করার সুযোগ নেই। এখানে দু’চার জন জিতে আর বাকী সবাই হারে বা ফতুর হয়। একটি দালান যার ভিত্তি মজবুত নয়। সেটি যদি বহুতল বিশিষ্ট বানানোর চেষ্টা করা হয় এক সময় সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং দালানটি ধসে পড়ে। কারসাজি পূর্ণ বিনিয়োগের পরিনতিও হয় তদ্রুপ। একথা সত্যি মৌলভিত্তি সম্পন্ন বিনিয়োগ রিটার্ন বা মুনাফা খুব দ্রুত ক্ষেত্র বিশেষে লাভ করা যায় না। যদিও কারসাজি পূর্ণ বিনিয়োগ থেকে খুব দ্রুত অনেকটা ম্যাজিকের মতো মুনাফা লাভ করা যায়। বুঝতে ভুল হলে বা হিসাবে ভুল করলে এ ধরনের বিনিয়োগে ম্যাজিকের মতো পুঁজি এবং মুনাফা সবটাই নিঃশেষ হয়ে যায়। যদিও এটা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি বা মানসিকতার* ব্যাপার। তারপরও মৌল ধারার বাজারে বিশ্লেষকদের অভিমত এ ধরনের বিনিয়োগ না করাই উত্তম। তাই বিনিয়োগ করার আগে পুঁজি বাজার সম্পর্কে আপনার ধারণাকে স্বচ্ছ করুন। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এ বাজারে অতিমাত্রায় লোভ এবং অকারণ ভীতি পরিহার করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত  গ্রহণের চেষ্টা করুন।

কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস

কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল বিষয়ক আলোচনা এবং টেকনিক্যাল এ্যানালাইসিস শুরুকরার আগে একটি কথা বলে নিতে চাই - যারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মৌলিক নিয়ম-নীতি জেনে এবং মেনে বিনিয়োগ করতে চান; তাদের জন্যই মূলত এই আয়োজন। আর যারা কোনো নিয়ম নীতি ছাড়াই শেয়ার ব্যবসা করেন তাদের জন্য এই সব আপাতত তেমন কোনো কাজে আসবে না। তারা ব্যবসায় সাময়িকভাবে হয়তো অনেক মুনাফা করতে পারেন। কিন্তু একসময় বড় লোকসানের শিকার হবেন। তখন এসব বিষয় জানা ছাড়া ভুল সংশোধনের বিকল্প কোনো সুযোগ থাকবে না। সুতরাং একজন বিনিয়োগকারী হিসাবে মৌল বিষয়গুলো আপনাকে জানতেই হবে। যা আপনার বিনিয়োগে অনাকাক্সিক্ষত ঝুঁকি এড়িয়ে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এ্যানালাইসিস বা মৌলবিষয় পর্যালোচনা
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস বা মৌল বিষয় পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিষদ আলোচনার দাবী রাখে। এ ক্ষুদ্র পরিসরে বিশাল এবং বিশেষায়িত জ্ঞানভিত্তিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সহজ নয়। কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল বুঝতে হলে এর আর্থিক প্রতিবেদন জানতে বা বুঝতে হবে। ফান্ডামেন্টাল বা মৌল বিষয়ের তথ্য-উপাত্ত তাতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। এটা খানিকটা জটিল, তাই সহজে বোঝার সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে বর্তমান অর্থ মন্ত্রীর এম এ মুহিতের বক্তব্য প্রাসঙ্গিক। তিনি আইসিএবি’র এক সেমিনারে বলেছেন, আমি এনুয়াল রিপোর্ট পড়তে পারি, কিন্তু ভালোভাবে বুঝি না। কারণ, এটা কীভাবে তৈরি করা হয় তা আমি জানি না। নিঃসন্দেহে এটা তাঁর অকপট সত্য ও সরলোক্তি। তার মানে এই নয় যে- আর্থিক প্রতিবেদন বুঝতে হলে সবাইকে চাটার্ড এ্যাকউন্ট্যান্ট হতে হবে। এটা বোঝার জন্য স্বচ্ছ ধারনা, জানার আগ্রহ এবং প্রচেষ্টা থাকা দরকার। সাধারণ ভাবে কোনো কোম্পানির মৌল বিষয় বলতে বুঝায় যে- অবস্থার মধ্যে কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয় এবং পণ্য বা সেবা বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে। যে কোনো কোম্পানির কর্মকান্ড বিচার-বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- অনেকগুলো মৌল উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো হচ্ছে :-
০১। ব্যবসার ধরন বা প্রকৃতি (Nature of Business)*এনটিসির আয় সংক্রান্ত বিষয়

০২। উদ্যোক্তা/ব্যবস্থাপকের স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা (Accountibility & Efficency of Sponsor/Management)

০৩। সম্পদ এবং সুনাম (Assets & Goodwill)

০৪। ঋণ ও দায় (Loan & Liabilities)

০৫। ইক্যুয়িটি (NAV/Shareholder Part)

০৬। পণ্য বিক্রির পরিমাণ (Turnover/Sales)

০৭। আয়-ব্যয় (Income & Expense)

০৮। কর হার ও কর অব্যাহতি (Tax Rate & Tax Holiday Facilities)

০৯। নীট আয় (Net Profit)
১০। লভ্যাংশ (Dividend)
১১। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বা ঝুঁকি (Future Prospect or Risk)

আবার এসব মৌল উপাদানের মধ্যে ব্যাপক ও বিস্তৃত বিষয় যুক্ত রয়েছে। সে সব বিষয় বিনিয়োগকারীকে জানতে এবং বুঝতে হয়। (যেমন- সম্পদে ফিক্সড এ্যাসেট, ফিক্সড এ্যাসেট ডিপোজিট, সাবসিডিয়ারী বা ইনভেস্টমেন্ট এবং ইনকাম প্রভৃতি)একজন বিনিয়োগকারী হিসাবে যখন বিনিয়োগ করবো তখন অবশ্যই জানা উচিত- যে কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছি; সেটা কোন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কী ধরনের ব্যবসা করে? এটা কী কোনো পণ্য উৎপাদন করে, না পণ্য বিপনন করে? নাকি এটা কমিশন ভুগী এজেন্ট না অন্য কিছু? (সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ার কিনে ট্রাক পাঠানোর গল্প)পুঁজিবাজারে বিভিন্ন ধরনের কোম্পানি রয়েছে। যেগুলোর বৈশিষ্ট্য অনুসারে খাতভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। যেমন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, খাদ্য, প্রকৌশল, তথ্য-প্রযুক্তি, টেলিকম ও সেবা খাত প্রভৃতি। এসব কোম্পানির ব্যবসায়িক নিয়ম নীতি সংকট ও সম্ভবনা প্রভৃতি বিষয়গুলো বিনিয়োগের সময় বিবেচনা করতে হয়।

বিভিন্ন কোম্পানির রেশিও এ্যানালাইসিস

পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনের ক্ষেত্রে যে ভাবে বিভিন্ন কোম্পানির রেশিও এনালাইসিস করা হয়; আমরা সে ভাবে তাত্বিক প্রক্রিয়ায় কোম্পানির রেশিও এ্যানালাইসিস করবো না। বরং বাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন খাতের কোম্পানিরগুলোর মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতের বেশ কয়েকটি কোম্পানির আয়-ব্যয়ের হিসাবের তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করবো। এ থেকে আপনারা বিনিয়োগের জন্য সহায়ক তথ্য পাবেন। কোনো কোম্পানি তাদের ব্যবসার কতোটা ভালো বা খারাপ করেছে এবং ভবিষ্যতে তাদের সম্ভবনা কতোটুকু সে সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারনা পাওয়া যাবে। আশা করি- এ থেকে আপনারা উপকৃত হবেন।কোম্পানির মৌলভিত্তি এ্যানালাইসিসের ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন, সম্পদ, পণ্য/সেবা বিক্রির পরিমাণ, পরিচালন ব্যয়, মজুদ পণ্যের পরিমাণ, পণ্য বিক্রি বাবদ পাওনা, কোম্পানির ঋণ বা দায়, অন্যান্য দায়দেনা, সুদ বাবদ ব্যয়, অতিরিক্ত আয়, করহার ও কর অব্যাহতি, নীট আয়, নীট সম্পদ, শেয়ার প্রতি আয়, লভ্যাংশ, পুঞ্জিভূত আয় প্রভৃতি বিষয়কে শতকরা হারে রূপান্তরের মাধ্যমে বের করতে হয়। প্রাপ্ত রেশিও ইতিবাচক হলে মৌলভিত্তিক কোম্পানি চেনাজানা সহজ হয়।কোনো কোম্পনিতে বিনিয়োগ করার আগে ফান্ডামেন্টাল এবং টেকনিক্যাল এনালাইসিস করার ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ের রেশিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে সেগুলো হচ্ছে-

১.    মূলধন (Paid-up Capital)
২.    মোট বিক্রির পরিমাণ(Total Sales)
৩.    পণ্য বা সেবা বাবদ খরচ (Cost of Sales/Goods)
৪.    পরিচালন ব্যয় (Operating Expense)
৫.    ঋণ বাবদ ব্যয় (Finance Cost)
৬.    অন্যান্য আয়-ব্যয় (Other Income/Expense)
৭.    করপূর্ব মুনাফা (Profit Before Tax)
৮.    করহার (Tax Rate)
৯.    নীট মুনাফা (Net Income)
১০.    শেয়ার প্রতি আয় (EPS)
১১.    নেট এসেট (NAV)
১২.    আয় প্রবৃদ্ধি (Income Growth)
১৩.    লভ্যাংশ প্রদানের হার (Dividend Policy)
১৪.    কোম্পানির সর্বশেষ শেয়ার হোল্ডিং অবস্থা (Latest Share Holding Position)
১৫.    শেয়ারের দাম (Share Price)
১৬.    শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত (Price Earning Ratio)
১৭.    লভ্যাংশ প্রাপ্তির শতকরা হার (Dividend Yield)
১৮.    রির্টান অন ইক্যুয়িটি (Return on Equity)এবং
১৯.    রির্টান অন এ্যাসেট (Return on Assets)প্রভৃতি।

First Actions in SEARCH ENGINE OPTIMIZATION after Developing a new Weblog


As you realize google may be the major internet search engine on the web. Everyone really wants to get best ranking upon google. Get best ranking upon google isn't always easy for newbies. So Today on this page I may explain the actual Steps within SEO after developing a blog that is allows you to improve your site Performances.
seo3
Today I’m going to pay attention to the points which confuse a brand new blogger. Because my encounter, I think a brand new blogger possess confused for that steps within SEO that after developing a blog.
First Actions in SEARCH ENGINE OPTIMIZATION after Developing a New Weblog
Write A few Quality Content inside your Post: firstly you have to post a few quality Posts together with your topic. Prior to doing SEARCH ENGINE OPTIMIZATION, you have to post a minimum of 10-12 Articles with High quality content. Content length can also be makes the matter such a long time Content Articles makes a great impression upon Google. Basically Content material length ought to be 800-1500 Phrases. Remember your articles should end up being Original (Don’t Duplicate Paste) & additionally use top quality images.
Submit your site in Internet search engine Directories: if you wish to get best ranking upon Google you have to submit your site in internet search engine directory. Blog distribution is primary purpose would be to make your site more searchable upon Google.
Search engines
Bing
Yandex
Sogou
Infotiger
ActiveSearchresult
Recognized
Amfibi
Usertown
Ping Your site: Pinging is actually nothing simply send signal to find engine about your site. Use Pingomatic Ping Device to ping your site.
Google Ping
Pingomatic
Start Discussing on Social networking: after finishing above actions in SEO you have to share your own post on Social networking network. It's also wise to share your site post upon Popular Social network sites such as Facebook, Tweets, Google+, Pinterest, Delicious, Reddit, Scoopit, Evernote, Instagram And so on. Sharing on Social networking Sites May Improve your website visibility on internet search engine & deliver Positive transmission about your site. It can help you in delivering unique people to your weblog.
Join & Reveal on Myspace Groups: as you realize facebook is among the Major System for obtain traffic. So before you decide to share your own post you have to join associated groups which could suit a person & reveal your post in it. Also, publish in associated Facebook Webpages or Buddies timelines. After carrying this out definitely, you will get more traffic in your blog.
Post within Multiple Myspace Groups in a single Click
Sign up for & Reveal on Google+ Neighborhood: google+ is a good platform they are driving more traffic in your blog. google+ may be the 2nd System for obtain more visitors on web after Myspace. Join your own niche Neighborhood & Reveal your Post in it. Believe me personally; you get plenty of traffic through there.
Link your own Facebook Page for your Blog: Create your company Facebook Web page & give a like button in your blog. A lot more like indicates your web presence means just how much people dealing with you or rely upon you. So gain a lot more like & Increase your web presence.
Begin Commenting & Obtain Backlinks: Now following steps are discover the blog associated with your subject. Visit your blog which identical to your market and Browse the article & acquire some new suggestions from presently there & depart a remark in remark box. For those who have any question associated with any publish then depart your query in remark box beneath the publish.

Publish in Several Facebook Group in a single Click

Should you searching with regard to Share your site Post within Multiple Myspace group in a single Click then you definitely are upon right location. I am opting for Sharing the Legal Method to Share your site Post within Multiple Myspace group in a single Click. I've seen each and every blogger Reveal their article in Myspace Groups with regard to drive much more traffic. If you've several organizations & a person share your own post individually 1 by 1 but it requires considerable time. So in the following paragraphs my try to save your time and effort. This method is totally cost free, safe and simple to use. With the aid of this technique, you may Share your own Post inside your entire myspace group in only a Moment. Using this process you may also post your pals timeline.
facebook-promoted-posts
Post within Multiple Myspace Groups in a single Click (Steps):
· First of, you have to go Myspace Developers Deliver button plugin web page. When you Open this particular URL Totally then scroll down in order to find Send Switch Configurator Area as observed in below point out Picture. For the reason that section you will find Two Boxes the first is URL in order to send & additional is Bare field Along with Send Switch.
How-to-Post-in-Multiple-Facebook-Groups-in-One-Click

After which Enter the actual URL associated with Post you need to Share within Multiple Myspace Group within URL in order to Send Area. After then you have to click upon Send Switch on beneath mention Section following this process a person Seen a brand new Pop-Up such as below point out Picture. With this Pop-up possess two sections the first is Recipients & second the first is your Information (Optional).
How-to-Post-in-Multiple-Facebook-Groups-in-One-Click2

After select all of your groups or even friends in the drop lower list within recipients. And Write a note of the Post. It's Optional. Following Entering Information & Recipients, you are able to send to any or all your groups at the same time.
How-to-Post-in-Multiple-Facebook-Groups-in-One-Click3

That’s this, now it'll immediately publish your Article about the selected organizations and buddies timeline.
Be aware:
Follow below ideas to keep your own Facebook accounts safe through temporary limitation or long term ban.
· Don’t select a lot more than 25 groups at the same time.
· Give the gap of a minimum of 2-3 Hr between each and every Post.
· Use this particular Formula to talk about your articles maximum 2-3 times per day.

Four unusual methods which enable you to lose pounds


Four remarkably unusual ways that will help you lose pounds –
Female Jogger on Coleman Avunue in Morro Bay, CA 5-2-07 - Photo by Mike Baird http://bairdphotos.com Canon 20D 100-400mm IS lens handheld from an outrigger canoe.
1. Play a guitar
Playing the actual recorder whilst sitting inside a chair won't do the secret, but practicing, playing as well as performing before an target audience standing all night will certainly give your own legs a good work out. Bring the actual kit the concert to a different and perform the instrument works your hands. Come upon, you will discover an device.
2. Smell an apple company
Alan Ur. Hirsch Doctor., smell as well as taste Remedy and Investigation Foundation within Chicago, conducted research with 3, 000 volunteers as well as found that individuals most frequently inhaled, the much less hungry these were and the greater weight these people lost – typically 30 lbs each. Some think that inhalation associated with food tricks the mind into considering you’re really eating. But even if you don't buy which, there isn't any harm within trying.
3. Home cleaning
Did you realize that you could burn as much as 500 calories with the house as well as garden normal maintenance duties? By cleansing the home windows, mopping the ground and de-cluttering, actually you're losing pounds. You may even add just a little dance whilst preparing supper and deadlift while cleaning dishes in order to reap the advantages.
4. Eating before mirrors
Eating before mirrors cut the way in which people consumed by nearly another, according to some study. It has that appear is shown back a number of its personal internal objectives, remembering why you need to lose weight to begin with.

Restricted control associated with diabetes will help prevent loss of sight

You may protect your own vision in the effects associated with diabetes through controlling your blood sugar levels intensely bloodstream, according to some recent research.
16573906_m
Were found to possess reduced the danger of diabetic retinopathy among a follow-up evaluation made 4 – Individuals with type two diabetes – that intensely managed your blood sugar levels in the actual blood throughout the milestone action to manage Cardiovascular Danger in Diabetes ( ACCORD) Attention Study Test years following stopping rigorous therapy.
The guide author Emily Gnaw said this particular study sends a strong message to individuals with type two diabetes who're concerned regarding vision reduction diabetes as well as added which well-controlled blood sugar or sugars level within blood, includes a positive impact, measurable as well as lasting health from the eyes.
Strict glycemic manage successfully decreases to typically 6.4 % A1C – a way of measuring average blood sugar – in contrast to 7.7 % among individuals on regular therapy with regard to glycemic manage. Although it didn't reduce the danger of coronary disease – for example heart assault and heart stroke – the actual researchers found how the therapy experienced cut the actual progression associated with retinopathy through about 1 / 3 at the conclusion of AGREEMENT. The outcomes also recommend a possible role for that continued utilization of fenofibrate for treating diabetic retinopathy, in the event that taken frequently.
Based about the findings from the ACCORD, fenofibrate may be worth taking to manage the development of diabetic retinopathy. Other nations – such as Australia – fenofibrate possess approved for treating diabetic retinopathy, although not the ALL OF US, Chew stated.

Noisy music improve hearing disability


Exposure in order to loud songs has increased the amount of adolescents who are afflicted by defects as well as increased danger of deafness within adulthood hearing, finds brand new research.
Neighborhood-Too-Noisy
The outcomes revealed that young adults engage within “risky hearing habits” from parties, night clubs and individual listening products.
In add-on, more compared to one quarter of these are currently experiencing continual tinnitus – the ringing or even buzzing within the ears that many typically impacts people more than 50 many years.
“It’s an increasing problem and I believe it can get worse, ” stated Larry Roberts from McMaster College in North america.
Teens that experienced ringing in the ears were prone to have the significantly decreased tolerance in order to loud noise is really a sign associated with hidden harm to the nerves which are used in treating sound.
Once the auditory anxiety are broken, brain tissue increase their own sensitivity towards the remaining records, which could make the seems seem more powerful currents.
The belief of elevated loudness is definitely an indication associated with nerve damage that cannot be detected through the audiogram – the conventional clinical check for listening to.
This “loss associated with hidden hearing” brought on by exposure in order to loud sounds within the early many years deepens all through life, worsening the power of 1 hearing later on in existence, the scientists said within an article published within the journal Medical Reports.
“It is actually common which after hearing loud songs experience the ringing inside your ears for the following day or therefore, ” stated Roberts, warning this brief tinnitus is definitely an early indication of vulnerability towards the harmful results of contact with sound.
Although some other types of hearing loss could be repaired, such neural damage cannot be undone. The only real safe answer, he states, is “prevention”.
For that study, researchers carried out detailed listening to tests in several 170 college students between 11 as well as 17 years of age.
At minimum 28 percent from the participants experienced developed continual tinnitus.

Cardiovascular disease, diabetes could be fatal mixture


The mixture of type two diabetes as well as disease from the coronary arteries could be fatal, according to some new research that discovered that sufferers with kind 2 diabetes accepted to medical center for center failure possess a one within four possibility of dying within the next 18 several weeks.
heart
The results show the much bleaker picture from the evolution of diabetics with severe cardiovascular disease than formerly known, the actual researchers stated. “2 diabetes associated with acute coronary affliction type needs a lot more attention, especially to be able to prevent an additional major heart event, ” stated William W White from the University associated with Connecticut in america..
Patients along with type two diabetes are 2 to 3 times the danger of cardiovascular disease in the overall population. This really is partly because of obesity along with other diseases for example
hypertension as well as high cholesterol levels bring about both illnesses, but there's concern that a few of the medications which help control blood sugar levels can additionally damage one's heart, the scientists said.

Actually insulin, the hormone which healthy individuals do normally, but a few patients along with type two diabetes frequently need like a drug, can bring about heart illness, they stated. White, along using their colleagues within 898 healthcare institutions all over the world tested alogliptin diabetes drug that's a family member of drugs referred to as DPP-4.
The actual researchers employed 5, 380 sufferers with kind 2 diabetes following the patient had a significant acute coronary affliction, but not really fatal, like a heart assault, or hospitalization with regard to unstable angina. randomize patients to consider either alogliptin or even placebo, and after that followed their own progress for approximately three many years were designated.
The research results demonstrated no distinction for alogliptin as opposed to placebo patients within the primary endpoint associated with cardiovascular passing away, myocardial infarction or even stroke. Now scientists provide brand new insights in to mortality within the trial of a number of new evaluates. People along with type two diabetes accepted to medical center for center failure confronted a twenty-four to twenty-eight percent likelihood of passing away during all of those other trial, aloglipin or even placebo, respectively, the actual researchers stated.
That’s a lot more than five times the danger of passing away was observed in patients that had extra cardiovascular occasion not deadly, while within the study, stated.
The scientists found which patients along with type two diabetes accepted to medical center for congestive center failure encounter a 1 in four possibility of dying within the next 18 several weeks. “It’s an extremely dramatic outcome. A individual with kind 2 diabetes that require hospitalization with regard to heart failing in diabetes test was the harbinger of the very bad outcome, ” Whitened said. The results were published within the journal Diabetes Treatment.

Leave behind headaches.


Much less sleep, lack associated with nutrients in your body, usually because of excessive function pressure as well as tension head aches. A large amount of annoying headache disappears. Many people cannot eliminate it, wince, or discomfort reliever paracetamol required medicine with no doctor’s guidance dropping. The actual temporary method is liberated, but discovered after a few practice you will get a headache in the release.
Woman has a headache
1. Retire for the night the exact same time every single day. Get sufficient sleep.


2. Gentle exercise. Exercise will be better blood flow in your body, causing headaches goes away.

3. Worry-free remain.

4. Drink lots of water.

5. You are able to drink espresso or teas. Tea as well as coffee coffee headache antibiotic functions as current.

6. Consider the odor of smashed cloves slim clean fabric. The headache could be reduced.

7. Keep fingers and ft soaked in tepid to warm water. It will be better blood flow in your body. As an effect, a headache could be reduced.

8. Continuous laptop or computer will not really work. Sometimes the actual eyes of all of those other day.

9. Mind, neck, temple and therapeutic massage well. Even headaches goes away.

10. Remove all the actual unwanted pleasure in the desired scenario, Smile open up heart. Along with signs associated with fatigue due to a disease that.

Contribute Blood to Remain Healthy

Blood Donation
Donation an excellent job. The celebration associated with life. Festival associated with Blood is usually laying membership. Not just that, lots of this type of social business been dealing with. So, lots of people join. Emerged that individuals feel is going on, what may be the evidence, people still don't judge dish varieties, all traversing geographical gift is the main festival. You can provide blood to individuals who have to know.
Physically as well as mentally wholesome person, the actual blood may cure. Blood donors should be aged in between 18 as well as 60 years of age. Body weight ought to be 45 kg or even more. Anayayi elevation weight entire body mass catalog, which means you need to see whether it might be okay. The quantity of hemoglobin within the blood, pulse and body's temperature will end up being normal. Respiratory system diseases, asthma, asthma free of whom they can donate bloodstream.
Before giving blood, donors must have tests which are
Anemia or even shortage associated with blood, jaundice, heartbeat rate, bloodstream pressure, body's temperature, weight, hemoglobin check, measuring the amount of blood sugars, ECG. Tests are extremely common. Consequently, blood donors ought to be kept prior to the test. So don't delay over time of difficulty.

Special safeguards to contribute blood:
four hours prior to donating bloodstream to give food to well. It's not right in order to donate blood with an empty belly.
Aspirin as well as drugs within the blood cannot be consumed. 48 several hours ago drugs to prevent blood gift habekonarupa power drink cannot take four hours back. No tats or tats or body to become pierced ear and nose ought to be done 2 to a month after the actual blood.

The blood shouldn't be given antibiotics to become taken:
Things jururi the actual donor who'll abide together. At the same time frame, the blood that's being utilized needle make certain it’s secure. You may take home just a little asabadhanataya bloodstream of any kind of epidemic. Consequently, to contribute blood ought to be extra notify.

Those who are able to not provide blood:
Most cancers patient, that suffers himephiliyate, that has taken medicines, pregnant ladies, there tend to be additional inhaling and exhaling trouble, who tend to be HIV-positive in addition to AIDS, whose weight may be reduced within the last two several weeks, four kg.

A developed man can provide blood at least one time in 4 months. When the donor blood is simply one a part of his entire body and bloodstream decreased 10 %. But this is actually the same quantity of blood very quickly. Five in order to six liters associated with blood in your body. 400-450 ml bloodstream donor generally gives 1 phase. No effect on the quantity of blood in your body do not really induce. So there isn't any reason in order to fear unneeded blood donor. Nevertheless, certain safeguards before as well as after bloodstream donation maintaining ten will be better to become your personal good.

100+ By hand Verified Free of charge Blog Directorories in order to Submit Your site

Every blogger wants to obtain more Traffic on Internet search engine. There tend to be some beneath mention advantages for submitting your site in sites. Basically, directory distribution required a few Confirmation but in the event of manually confirmed blog listing, there isn't any need associated with Confirmation. So submit your site & obtain Quality Back links.
high-pagerank-directories
Your Weblog got Brand new Quality Back links.
Your Weblog Gets much more Traffic via Directory.
You discover new Target audience or Visitors for the Blog

It is best to to first create a new notepad document and create few particulars like:
Name from the blog:
URL from the blog:
Feed URL from the blog
Description from the blog within 2-3 outlines

Free Webblog Directories:
  1. http://www.1abc.org
  2. http://www.9sites.net
  3. http://www.a1webdirectory.org
  4. http://www.aaf14.org
  5. http://www.addbusiness.net
  6. http://www.addfreewebdirectory.com
  7. http://www.addurlguide.com
  8. http://www.alistsites.com
  9. http://www.allforblog.com
  10. http://www.ananar.com
  11. http://www.anoj.org
  12. http://www.bedwan.com
  13. http://www.bestbusinesswebdirectory.com
  14. http://www.bizzdirectory.com
  15. http://www.blogarama.com
  16. http://www.blogs-collection.com
  17. http://www.blogdire.com
  18. http://www.blogfolders.com
  19. http://www.blogdirectory.ws/
  20. http://www.bloggernity.com/
  21. http://www.bloghub.com
  22. http://www.blogicas.com/
  23. http://www.bloggernow.com
  24. http://blogratings.com
  25. http://www.blogrollcenter.com/
  26. http://www.blogtopsites.com
  27. http://www.blog-search.com
  28. http://blogswirl.com
  29. http://blogville.us
  30. http://blogrific.com
  31. http://www.blogflux.com
  32. http://www.blogdire.com
  33. http://www.blogdir.co.uk
  34. http://boingboing.net
  35. http://boxyblogs.com
  36. http://blogsrater.com
  37. http://boxyblogs.com
  38. http://www.bloglisting.net
  39. http://www.bocaiw.net
  40. http://www.britblog.com
  41. http://www.cipinet.com
  42. http://www.cluboo.com
  43. http://www.directoryfire.com
  44. http://www.directmylink.com
  45. http://www.directoryseo.biz
  46. http://www.freedirectorysubmit.com
  47. http://www.freetoprankdirectory.com
  48. http://www.freewebsitedirectory.com/
  49. http://www.findsites.net
  50. http://fuelmyblog.com
  51. http://www.gainweb.org
  52. http://globeofblogs.com
  53. http://www.h-log.com
  54. http://www.happal.com
  55. http://www.highrankdirectory.com
  56. http://homepageseek.com/
  57. http://www.hottestblogs.com
  58. http://www.icerocket.com/
  59. http://www.info-listings.com
  60. http://www.informationcrawler.com
  61. http://www.jewana.com
  62. http://listablog.com
  63. http://www.linkpedia.net
  64. http://www.linkroo.com
  65. http://links.kozolec.net
  66. http://linksmaximum.com
  67. http://www.link-minded.com
  68. http://www.livepopular.com
  69. http://www.marketingwebdirectory.com
  70. http://myonlinewebdirectory.or
  71. http://www.nexusdirectory.com
  72. http://www.omabe.com
  73. http://www.onlinesociety.org
  74. http://www.pegasusdirectory.com
  75. http://picktu.com
  76. http://www.plazoo.com
  77. http://www.prolinkdirectory.com
  78. http://puppyurl.com
  79. http://www.promotebusinessdirectory.com
  80. http://pxdaj.com
  81. http://www.ranaf.com
  82. http://www.rdirectory.net
  83. http://regator.com
  84. http://www.rocktheadored.com
  85. http://www.scrubtheweb.com
  86. http://www.sites-plus.com
  87. http://www.sitepromotiondirectory.com
  88. http://www.spicypage.com
  89. http://www.submissionwebdirectory.com
  90. http://somuch.com
  91. http://www.synergy-directory.com
  92. http://www.the-free-directory.co.uk/
  93. http://www.thegreatdirectory.org/
  94. http://www.topsiteswebdirectory.com
  95. http://www.transops.net
  96. http://www.urlshack.com
  97. http://www.usgeo.org
  98. http://directory.ubdaily.com
  99. http://www.w3catalog.com
  100. http://www.wilsdomain.com
  101. http://www.worldweb-directory.com

What's Backlink & How you can Increase Backlinks for your blog?


In seo, Backlinks is among the Major Component. Many those who are new in Seo struggle to comprehend the idea of Backlinks. So in the following paragraphs I Hope you'll understand the idea of Backlinks.
Do-follow-lists
What's Backlink?
In Seo backlinks is definitely an Incoming connect to a web site to your personal blog or Web site. It can also be term as backlinks. These links are essential in determining the popularity of the blog. Because all internet search engine especially Search engines give much more importance for your blog or even website which have more quantity of Quality Back links. There tend to be some Back links types point out below:
Hyperlink Juice: When the Webpage connect to your post or your web site then this pass the hyperlink juice quite simply we may say whenever any hyperlink to the website is actually term because Link liquid. It allows you to drive your own article much more searchable upon google & additionally improve site authority.
DoFollow: DoFollow is really a special structure of marking the hyperlinks of the blog. Whenever a backlink is actually tagged like a DoFollow hyperlink, it helps the web site readers to obtain redirected towards the site. Automatically all hyperlinks you add blog publish article is actually Do-Follow & these people pass within link Liquid.
NoFollow: Whenever a Webpage links to a different webpage, however the link includes a no-follow label, that link doesn't pass the hyperlink juice. Nofollow links isn't count because page enhancement concern & doesn’t increase your Pr. Example: whenever you comment within other blogs then you definitely get Absolutely no follow back links.
Internal Hyperlinks: Internal hyperlinks is phrase as link that will one Page to a different page within same Site.
Anchor Textual content: The clickable link that is used inside a hyperlink is referred to as an Point Text. if you're working on the particular key phrase then point text play an essential role & helps into improve your own backlinks. Essentially, these would be the keyword that is used within anchor textual content for improve backlinks.
How you can Increase Backlinks for your Blog:
Create Quality Post: this is among the most powerful techniques for getting backlinks. In case your article is actually more Appropriate & original then you definitely don’t require anything. This is simple method to getting high quality backlinks for the blog. Create a article along with complete investigation & Utilized Power words inside your article. I promise you receive more traffic as possible.
Start Commenting & Find out more: commenting can also be a free method to get brand new backlinks. Make a summary of your subject related weblogs & study their publish & obtain ideas through there. For those who have any query regarding any kind of article you might put your own question within comment container. Commenting is better way to obtain instant back links from an additional blog.
Submit Your site in Internet Directories: this isn't a easy method to submit your site in internet directory. Because is extremely difficult to acquire out the actual Legal directory for the blog. Additionally you you by hand verified weblog directory with regard to submit your site.
Post on Social networking: Social media may be the popular way to find the backlink. There are many social press sites for example Facebook, Tweets, Google+, Pinterest, Stumbleupon which could give a person more high quality backlinks. you need to share your own article upon Facebook organizations & Google+ community based on your Subject.
Submit Visitor Post: guest publish take a bit time however it more powerful so you can get quality back links. onve a person start visitor posting you've more opportunity to get back links. Write upon topics that you simply are enjoy. Basically, guest posting way to publish articles on an additional Website or even Blog. Some weblog offer visitor posting not every. So discover the Blog that accept visitor post & Submit your article in it.
Advantage associated with Backlink in Seo:
For Enhance Ranking
For Quicker Index searching Engine
With regard to Drive Referal Visitors
Branding
With regard to Building Expert
Promotion

SEARCH ENGINE OPTIMIZATION Guide: What exactly are Link Creating & its Importance within SEO?


If you are searching for drive much more Traffic in your Blog after that Link Building is most significant Skill within SEO. In nowadays Gain much more traffic about the Search engine is extremely complex because Internet search engine now needed Quality more than Quantity. If you're New within SEO or Searching for traffic then this short article may assist you to.
What-is-seo-importance-in-blogging
Link Creating Importance within SEO?
In Seo Link Building may be the Process associated with Exchanging Hyperlinks with additional sites to improve your Personal Website Back links. In additional Words, we are able to say which Link Building may be the Process associated with Acquiring back links from additional Website for your own. A hyperlink may be the way which used get around between webpages on web. There tend to be many processes for Link Creating.
Link Creating
Key Advantages of Link Creating:
Link Building allows you to get much more Traffic through other websites connect to you.
Improve Your Web page Authority through Incoming Hyperlinks from additional Website.
if You are searching for more visitors then Hyperlink Building is actually Must.
Link creating also assists in obtaining indexed searching result very easily.
More visibility of the blog searching Engine outcome.
Best Methods to Built Links free of charge:
Writing High quality Content & Connected naturally.
Create Quality Content material & Notify blogger.
Perform follow Weblog Commenting.
Discussion board Post.
Google Answer.
Make use of Anchor Textual content.
Go Interpersonal
Share on Social networking.
Directory Distribution.
Guest Publishing.